Khoborerchokh logo

গাইবান্ধায় কলেজ জীবনের প্রথম প্রেমের ঘটনায় হতাশা আর অভিমানে শিক্ষিকার আত্মহনন 132 0

Khoborerchokh logo

গাইবান্ধায় কলেজ জীবনের প্রথম প্রেমের ঘটনায় হতাশা আর অভিমানে শিক্ষিকার আত্মহনন

নিজস্ব পতিবেদক:
কলেজ জীবনের প্রেম ঘটিত চিন্তন জগতের নেগেটিভ প্রভাবে হতাশা ক্ষোভ আর অভিমান ও যন্ত্রণা সহ্য করতে না পেরে নদীতে ডুবে আত্মহননের সমাধান হিসেবে বেছে নিতে বাধ্য হলেন গাইবান্ধার স্কুলশিক্ষিকা তাসনিম আরা নাজ। গত মঙ্গলবার সকালে বাড়ি থেকে বেড়িয়ে স্কুলে যাওয়ার পথে সামনের ঘাঘট নদীতে লাফ দিয়ে তিনি আত্মহত্যা করেছেন।

স্থানীয়রা ও তার পরিবার ও স্বজনরা জানান, গাইবান্ধা শহরের পাশে ঘাঘট নদী লাগোয়া পূর্ব কোমরনই মিয়াপাড়া গ্রামের বাসিন্দা নাসির উদ্দিনের মেয়ে তাসনিম আরা নাজ ছিলেন মেধাবী ছাত্রী। কলেজ জীবনে তার ক্লাস ফ্রেন্ডের সঙ্গে প্রেম করেন দীর্ঘদিন; কিন্তু প্রেমের সম্পর্কটা বিয়ে পর্যন্ত গড়ায়নি ফলে মানসিকভাবে একাগ্রতা। 

 ভালো ছাত্রী হিসেবে প্রাইমারি শিক্ষিকার চাকরিতে যোগ দেন গত ১০ বছর আগে; কিন্তু প্রথম জীবনের প্রেমিকের কথা ভুলে যেতে পারেননি। তাই শিক্ষিকার চাকরি হলেও তিনি আর বিয়ের পীরিতে রাজি ছিলেন না। পরিবার থেকে তাকে অনেকবার বিয়ের জন্য চাপ দিলেও বিয়ে করতে রাজি হননি নাজ ।

দিনে দিনে নিজের প্রতি হতাশা, ক্ষোভ আর অভিমানী হয়ে ওঠেন। শুধু স্কুল আর বাড়ি ছাড়া কোথাও যেতেন না তিনি। কারো সঙ্গে মিশতেন না কথাও বলতেন না। পুরুষ মানুষের প্রতি ছিল তার অনেক অপ্রকাশিত ঘৃণা। তাই নিজের যতো কষ্ট ক্ষোভ আর হতাশার জীবনকে সামলে নিয়ে অনেক দিন চলেন নিজের মতো করে ।

কিন্তু এই জমানো কষ্ট আর বেশি দিন সইতে পারেনি। তাই মঙ্গলবার ভোরে মিয়াপাড়ার বাড়ি থেকে বের হয়ে সোজা খরস্রোতা ঘাঘট নদীতে লাফিয়ে পড়ে আত্মহননের পথ বেছে নেন তিনি। সাঁতার জানতেন না বলেই নদী থেকে আর উঠতে পারেনি। সকালে নদীতে দুই হাত উঁচু করে নারীর লাশ বাড়ির সামনে দিয়ে ভেসে যাওয়ার সময় লোকজনের নজরে আসে। ততক্ষণে অভিমানী নাজ আর বেঁচে থাকার সম্ভবনা হারিয়ে ফেলেছে।  স্থানীয়রা নদীতে ভাসমান অবস্থায় তার লাশ দেখতে পান এবং নদী থেকে টেনে তোলেন।

খবর পেয়ে গাইবান্ধা সদর থানার পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে তদন্ত শুরু করে। স্থানীয়রা ও তার পরিবারের পক্ষ থেকে বলা হয়- নাজ নিজের হতাশা, অভিমান ও ক্ষোভ নিয়ে জীবন বিসর্জন দিয়েছেন।
তার মৃত্যুর জন্য কেউ দায়ী নয়।
লিখিত দিয়ে পুলিশের কাছ থেকে তার পিতা নাসির উদ্দিন মেয়ের লাশ বাড়িতে নিয়ে বিকালে দাফন করেন। তিনি সাংবাদিকদের কাছে এসব ঘটনা তুলে ধরেন, প্রেম ভালোবাসা ও পুরুষ মানুষ তার জীবনের কাল হয়ে দাঁড়িয়েছিল। আজ সে মুক্তি নিয়ে চলে গেল।

গাইবান্ধা সদর থানার ওসি শাহিনুর আলম জানান,তার শরীরে কোনো আঘাতের চিহ্ন নেই। দেখে মনে হচ্ছে আত্মহত্যা করেছেন।
স্বজনদের কোনো অভিযোগ না থাকায় ময়নাতদন্ত ছাড়াই লাশ হস্তান্তর করেছি


সম্পাদকঃ আলমগীর কবীর, ব্যাবস্থাপনা সম্পাদকঃ মনিরুজ্জামান। উপদেষ্টা সম্পাদক পরিষদঃ শাহিন বাবু । অস্থায়ী কার্যালয়ঃ নাওজোড়, বাসন, গাজীপুর মেট্রো পলিটন, গাজীপুর।
যোগাযোগঃ ০১৭১১৪২১৪৫১, ০১৯১১৮৮৯০৯৩, ই-মেইলঃ khoborersomoy24@gmail.com, web: www.khoborersomoy.com