আলমগীর কবীর:
দেশের সকল জেলাশহর থেকে গ্রামের প্রত্যান্ত এলাকা জুড়ে কিশোর গ্যাংয়ের মাধ্যমে বাড়ছে অপরাধ । কিশোর গ্যাংয়ের সদস্যরা ছিনতাই, চাঁদাবাজি, মাদক ব্যবসা ও খুনসহ নানা অপরাধে জড়িয়ে পড়ছে। অপরদিকে পুলিশসহ আইনশৃঙ্খলা বাহিনী পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে নিয়মিত অভিযান চালিয়ে যাচ্ছে । তাতে গ্রেফতারও হচ্ছে। কিন্তু তারপরও দেশের শহর থেকে গ্রাম সর্বত্রই ছড়িয়ে পড়েছে কিশোর অপরাধ। কয়েক বছর আগেও কিশোরদের মধ্যে এমন অপরাধ প্রবণতা দেখা যায়নি। কিন্তু প্রযুক্তির বিস্তার, স্থানীয় আধিপত্যের লড়াই ও মাদক ব্যবসাকে কেন্দ্র করে বিস্তার ঘটেছে কিশোর গ্যাংয়ের। আর কিশোর আইনের নমনীয়তার সুযোগে অনেক অভিযুক্ত দ্রুত জামিনে বের হয়ে পুনরায় অপরাধে জড়াচ্ছে। আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী সংশ্লিষ্ট সূত্রে এসব তথ্য জানা যায়।
সংশ্লিষ্ট সূত্র মতে, সমাজের সুবিধা বঞ্চিত পরিবারের কিশোররাই জড়িয়ে পড়ছে অধিক মাত্রায়। সেক্ষেত্রে সমাজের স্বার্থান্বেষী মহলও ঐ কিশোরদের একটি অংশকে একত্রিত করে কিশোর গ্যাং তৈরি করে ব্যবহার করছে নানা অপরাধে। কিন্তু দেশের প্রচলিত আইন অনুযায়ী কিশোর অপরাধীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণ করেও যথাযথ প্রতিরোধ সম্ভব হচ্ছে না। কারণ গুরুতর অপরাধে হাতেনাতে গ্রেফতারের পরও কয়েক সপ্তাহের মধ্যে ওসব কিশোর দুর্বৃত্তদের আবার এলাকায় ফিরে আসছে। তারপর তারা আরো বেপরোয়া হয়ে উঠছে। ফলে রাজধানীসহ জেলা শহরগুলোর প্রতিটি পাড়া-মহল্লা থেকে শুরু করে গ্রামাঞ্চল পর্যন্ত কিশোর গ্যাংয়ের বিস্তার ঘটেছে।
সূত্র জানায়, দেশে মাদকের বিস্তারে কিশোরদের মধ্যে মাদকাসক্তি বাড়ছে উদ্বেগজনক হারে। আর মাদকাসক্ত ঐসব কিশোররা হত্যার মতো অপরাধেও জড়িয়ে পড়ছে। মূলত কিশোর গ্যাংগুলো প্রায়শই স্থানীয় বড় ভাই বা প্রভাবশালীদের নিয়ন্ত্রণে থাকে। ওসব প্রভাবশালীরাই নিজেদের স্বাথে মাদক, চাঁদাবাজি ও দখলবাজিতে কিশোরদের ব্যবহার করে। পাশাপাশি দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে মাদক সহজলভ্য হওয়ায় অপরাধে জড়িয়ে পড়া আরো সহজ হচ্ছে ।
সূত্র আরো জানায়, ক্যানসারের মতো সারাদেশে কিশোর গ্যাংয়ের অপরাধ ছড়িয়ে পড়ছে। ছিনতাই, চাঁদাবাজি, খুন, মাদক সেবন সব অপরাধেই কিশোর গ্যাং জড়িত। তাদের হাতে চাপাতি, লাঠি ও অস্ত্র। পাড়া-মহল্লার বাসিন্দারা তাদের দাপটে অতিষ্ঠ। এসব কিশোরদের সুস্থ জীবনে ফিরিয়ে আনা জাতির জন্য একটা চ্যালেঞ্জ। কেবল আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর একার পক্ষে সম্ভব নয়, ঘর থেকে তাদের পিতা-মাতা, অভিভাবকদেরও সচেতন হতে হবে। সন্তান কোথায় যাচ্ছে, কার সঙ্গে মিশছে খোঁজ খবর রাখতে হবে। এখনই ব্যবস্থা না নিলে কোমলমতি স্কুলগামী কিশোরদের বিরাট অংশ ধ্বংস হয়ে যাবে।
এদিকে এ প্রসঙ্গে ঢাকা মহানগর ভারপ্রাপ্ত পুলিশ কমিশনার মো. সারওয়ার ও গাজীপুর মেট্রোপলিটন পুলিশ কমিশনার ইসরাইল হাওলাদার জানান,রাজধানীসহ জিএমপির সব থানায় কিশোর গ্যাংয়ের বিরুদ্ধে নিয়মিত অভিযান চলছে। কিশোর গ্যাং সদস্যদের পাশাপাশি পৃষ্ঠপোষকদেরও তালিকাভুক্ত করা হচ্ছে। কাউকে ছাড় দেয়া হবে না।