ছবি; গুরুতর আহত-দেলোযার হোসেন
: গাইবান্ধা সদর উপজেলাধীন ১নং লক্ষ্মীপুর ইউনিয়নের উজির ধরণীবাড়ি গ্রামে জমি সংক্রান্ত বিরোধের জেরে তুমুল সংঘর্ষে গুরুতর আহত ৪ জন । স্থানীদের সহায়তায় আহতদের উদ্ধার করে গাইবান্ধা সদর হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। আহতদের মধ্যে একজনের অবস্থা আশঙ্কাজনক। আলম মিস্ত্রী নামের প্রতিপক্ষের একজনকে গ্রামবাসী আটক করে থানা পুলিশে সোপর্দ করেছে। এ ব্যাপারে সংশ্লিষ্ট থানায় মামলা দায়ের করা হয়েছে।
মামলাসূত্রে জানা যায়,উজির ধরনীবাড়ী গ্রামের মৃত সাহেব উদ্দিন ব্যাপারীর পুত্র আফসার আলীর সাথে আরেক ভাই বজলার রহমানের মাত্র ১৪ শতাংশ জমি নিয়ে বিরোধ চলছিল। ঐ ১৪ শতাংশ জমি পৈতৃক সুত্রে আফসার আলীর হলেও দীর্ঘদিন থেকে বজলার রহমান তাকে ঐ সম্পত্তি থেকে বঞ্চিত রাখে দীর্ঘকাল । এক পর্যায়ে আফসার আলী উক্ত সম্পত্তির ভাগ চাইলে উভয়ের মধ্যে শত্রুতা শুরু হয়।
এ ব্যাপারে স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গরা কয়েক দফা সালিশ বৈঠক এমনকি লক্ষ্মীপর ইউনিয়ন পরিষদেও সালিশ বৈঠক হয় । মামলার বিবাদী বজলার রহমান কোন প্রকার কাগজ পত্র উপস্থাপন না করে তাল বাহানা করে। এমতাবস্থায় আফসার আলী কমপক্ষে এক মাস পূর্বে উল্লেখিত ১৪ শতাংশ জমি নিজ দখলে নেয় এবং উক্ত জমিতে বাড়ি নির্মাণ করে বসবাস শুরু করেন।
গত ২৫ জানুয়ারী ২০২৫ ইং তারিখে স্থানীয় হাট লক্ষ্মীপুরে একটি ইসলামী জলসা থাকায় সেই সুযোগে বজলার রহমান ও তার দ্বিতীয় স্ত্রী আলেয়া বেগমের পূর্বের স্বামীর ঘরের ছেলে আলম মিয়ার পরস্পর যোগসাজসে দিবাগত রাত আনুমানিক ১০ টার দিকে একদল সন্ত্রাসী প্রকৃতির সংঘবদ্ধ দলসহ নিকট আত্মীয় স্বজনদের সঙ্গে নিয়ে হাতে লাঠি-শোটা,দা,কুড়াল,রাম দা, ছোড়াসহ বিভিন্ন দেশীয় অস্ত্রশস্ত্রে একযোগ উল্লেখিত বাড়িতে অনাধিকার প্রবেশ করে আফসার আলী,দেলোয়ার,সাহেরা বেগম,হাজেরা বেগমের উপর অতর্কিত হামলা চালিয়ে মারপিট,ভাঙ্গচুরসহ নগদ এক লক্ষ আশি হাজার টাকা ছিনিয়ে নেয় ।
মামলার বরাতে আরও জানা যায়, আফসারকে বাঁচাতে তার ভাতিজা মোঃ রফিজল মিয়ার পুত্র দেলোয়ার হোসেনসহ বাড়ির লোকজন এগিয়ে আসলে তাদেরকে বেধরক মারপিট করে। মারপিটে দেলোয়ার হোসেন, রবিউল, সাহেরা ও আনোয়ারা সহ কমপক্ষে ৪ জন গুরুতর আহত হয়। গুরতর আহতদের আত্মচিৎকারে আশপাশের লোকজন ছুটে এসে তাদেরকে উদ্ধার করে গাইবান্ধা সদর হাসপাতালে চিকিৎসার জন্য পাঠায়।
আহতদের মধ্যে দেলোয়ার হোসেনের শারীরিক অবস্থা অবনতি হলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে স্থানান্তর করেন। বর্তমানে দেলোয়ার হোসেন রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে মৃত্যুর সঙ্গে পাঞ্জা লড়ছে।
এ ব্যাপারে আফসার আলী বাদী হয়ে বজলার রহমান,আমিনুর রহমান,আলম মিস্ত্রী,জনি মিয়া,জাহানুর বেগম, আলেয়া বেগম, লিপি বেগম, রহমান মিয়া, তাজু মিয়া, বিলকিস বেগম ও আরো ১৫/২০ জন অজ্ঞাত নামা আসামি করে গাইবান্ধা সদর থানায় মামলা দায়ের করেন। মামলা নং ৩২ তারিখঃ ২৬/০১/২০২৫ ইং।

সুত্র জানায়,শোরগোলের সময়ে মামলার বিবাদীরা বজলার মিস্ত্রীসহ তার সঙ্গীয়রা উক্ত জমি তাদের দখলে ছেড়ে দিতে বলে অকথ্য ভাষায় গালিগালাজ করতে থাকে। প্রকাশ্যে প্রানে মেরে ফেলবে মর্মে হুমকি ধামকি দিতে থাকে। তারা এর আগেও অনেকবার উক্ত জমি থেকে আফসার আলী ও তার পরিবারকে সরে যেতে বলেছে। শুধু তাই নয়, আফসার বা তার পরিবারের লোকজন যদি উক্ত জমি থেকে সরে না যায়,তাহলে তারা বিভিন্ন ভাবে ক্ষয়ক্ষতি করবে।
তাদের গুন্ডা বাহিনী দিয়ে পরিবারের কাউকে না কাউকে হত্যা করে লাশ গুম করার হুমকি প্রদর্শন করে। বজলার রহমান তার নিজের বাড়ীতে আগুন লাগিয়ে আফসার বা তার পরিবারের ।অন্যান্য লোকজনকে মিথ্যা মামলায় ফাঁসিয়ে দেবে। এমতাবস্থায় আফসার আলীসহ তার পরিবারের লোকজন জীবনের ঝুঁকি নিয়ে নিরাপত্তাহীনতায় ভূগছে।