বৃহস্পতিবার, ২৩ এপ্রিল ২০২৬, রাত ৮:৫৯ সময়

ব্রেকিং নিউজ **গাজীপুরে রিসোর্ট এন্ড স্পা সেন্টারে  অভিযান বিপুল মাদকসহ ৬ জন গ্রেফতার গাজীপুরে রিসোর্ট এন্ড স্পা সেন্টারে অভিযান বিপুল মাদকসহ ৬ জন গ্রেফতার** **আসন্ন স্থানীয় সরকার নির্বাচনে জিসিসি'র ৫৪ নং ওয়ার্ডবাসীর সেবক হতে চান আজিজুল হক রাজু মাষ্টার আসন্ন স্থানীয় সরকার নির্বাচনে জিসিসি'র ৫৪ নং ওয়ার্ডবাসীর সেবক হতে চান আজিজুল হক রাজু মাষ্টার** **শহর থেকে গ্রামাঞ্চলে চাঁদাবাজিসহ নানা অপরাধে জড়িত কিশোর গ্যাং শহর থেকে গ্রামাঞ্চলে চাঁদাবাজিসহ নানা অপরাধে জড়িত কিশোর গ্যাং** **বর্তমান সময়ে বাংলাদেশে অপরাধী যেই হউক আইনের আওতায় আসতেই হবে; জিএমপি কমিশনার বর্তমান সময়ে বাংলাদেশে অপরাধী যেই হউক আইনের আওতায় আসতেই হবে; জিএমপি কমিশনার** **১৮তম অ্যাটর্নি জেনারেল হিসেবে নিয়োগ পেয়েছেন ব্যারিস্টার রুহুল কুদ্দুস কাজল ১৮তম অ্যাটর্নি জেনারেল হিসেবে নিয়োগ পেয়েছেন ব্যারিস্টার রুহুল কুদ্দুস কাজল** **ঈদে নাড়ীর টানে বৃষ্টি বিঘ্নিত ঘরমুখো মানুষের অস্বস্তি! ঈদে নাড়ীর টানে বৃষ্টি বিঘ্নিত ঘরমুখো মানুষের অস্বস্তি!** **ঝিনাইদহের পান্থসখা হাইওয়ে রেস্টুরেন্ট আগুনে পুড়ে ছাই ঝিনাইদহের পান্থসখা হাইওয়ে রেস্টুরেন্ট আগুনে পুড়ে ছাই** **বেনজীর আহমেদের বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি বেনজীর আহমেদের বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি** **জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ে সুবিধা বঞ্চিত ৯৮৮ কর্মকর্তা-কর্মচারীর অবস্থান কর্মসূচি জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ে সুবিধা বঞ্চিত ৯৮৮ কর্মকর্তা-কর্মচারীর অবস্থান কর্মসূচি** **গাজীপুরে ৪০ পিছ ইয়াবাসহ দুই মাদক কারবারিকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ গাজীপুরে ৪০ পিছ ইয়াবাসহ দুই মাদক কারবারিকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ** **জ্বালানী তেলের সংকট তৈরি হওয়ার কোনো আশঙ্কা নেই আসছে আরও ২ জাহাজ : জ্বালানি মন্ত্রী জ্বালানী তেলের সংকট তৈরি হওয়ার কোনো আশঙ্কা নেই আসছে আরও ২ জাহাজ : জ্বালানি মন্ত্রী** **ছবি: কামরুজ্জামান মোল্লা গাজীপুরে সুজনের সহ-সভাপতির, হাত-পা বাঁধা লাশ উদ্ধার** **দলমত নির্বিশেষে জাতিকে জ্ঞানের আলোয় আলোকিত করতে চাই: তারেক রহমান দলমত নির্বিশেষে জাতিকে জ্ঞানের আলোয় আলোকিত করতে চাই: তারেক রহমান** **গাইবান্ধা সদর হাসপাতালে পরিচ্ছন্ন অভিযান, জনবল সংকট নিরসনে উদ্যোগের আশ্বাস এমপি`র গাইবান্ধা সদর হাসপাতালে পরিচ্ছন্ন অভিযান,জনবল সংকট নিরসনে উদ্যোগের আশ্বাস এমপি`র** **বাংলাদেশ ব্যাংকের নতুন গভর্নর হিসেব নিয়োগ পেলেন মোস্তাকুর রহমান বাংলাদেশ ব্যাংকের নতুন গভর্নর হিসেব নিয়োগ পেলেন মোস্তাকুর রহমান** **জিসিসি‘র নতুন প্রশাসক শওকত হোসেন দায়িত্ব গ্রহণের প্রথম দিন জানান ৬মাসের পরিকল্পনা জিসিসি‘র নতুন প্রশাসক শওকত হোসেন দায়িত্ব গ্রহণের প্রথম দিন জানান ৬মাসের পরিকল্পনা** **আগামী জাতীয় সংসদের প্রথম অধিবেশন শুরু হবে ১২ মার্চ ২০২৬ আগামী জাতীয় সংসদের প্রথম অধিবেশন শুরু হবে ১২ মার্চ ২০২৬** **ছবি; শওকত হোসেন সরকার বিএনপি‘র মহানগর নেতা থেকে গাসিক প্রশাসক নিয়োগ পেলেন শওকত হোসেন সরকার** **গাজীপুর মহানগর ৩৫ নং ওয়ার্ড কাউন্সিলর পদপ্রার্থী এম রতন তানজীম এর উদ্যোগে ইফতার মাহফিল সম্পন্ন গাজীপুর মহানগর ৩৫ নং ওয়ার্ড কাউন্সিলর পদপ্রার্থী এম রতন তানজীম এর উদ্যোগে ইফতার মাহফিল সম্পন্ন** **ছবি; এম রতন তানজীম, ৩৫ নং ওয়ার্ড কাউন্সিলর পদে প্রার্থী গাজীপুর মহানগরের জনপ্রিয় সাবেক ছাত্রনেতা এম রতন তানজীম ৩৫ নং ওয়ার্ডের কাউন্সিলর পদপ্রার্থী**

মিয়ানমারের চলমান পরিস্থিতিতে প্রতিবেশী দেশগুলোর ভুমিকা ও বাংলাদেশের অবস্থান

logoব্রিঃজেঃ(অবঃ) শামসশনিবার, ২৩ সেপ্টেম্বর ২০২৩, দুপুর ২:১৯ সময় 0531
মিয়ানমারের চলমান পরিস্থিতিতে প্রতিবেশী দেশগুলোর ভুমিকা ও বাংলাদেশের অবস্থান

মিয়ানমারের চলমান পরিস্থিতিতে প্রতিবেশী দেশগুলোর ভুমিকা ও বাংলাদেশের অবস্থান

ব্রিঃজেঃ(অবঃ) শামস:   
গত ৫ সেপ্টেম্বর, ইন্দোনেশিয়ার জাকার্তায় অনুষ্ঠিত ৪৩ তম আসিয়ান শীর্ষ সম্মেলনে মিয়ানমার বিষয়ক পাঁচ দফা ঐকমত্য বাস্তবায়নের বিষয়ে আসিয়ান নেতারা পর্যালোচনা করে কিছু সুপারিশ প্রণয়ন করে।


তাঁরা মিয়ানমারে ক্রমাগত সহিংসতার তীব্র নিন্দা জানায় এবং এই সংকট জনগণের মধ্যে দীর্ঘস্থায়ী দুর্ভোগ, মানবিক সংকট এবং আঞ্চলিক স্থিতিশীলতার উপর বিরূপ প্রভাব ফেলছে বলে তাদের মত ব্যক্ত করে। তারা একটি শান্তিপূর্ণ সমাধানের বিষয়ে মিয়ানমারকে সহায়তা করার ব্যাপারে আসিয়ানের প্রতিশ্রুতি পুনর্ব্যক্ত করে। মিয়ানমারের জনগণের প্রয়োজনে মানবিক সহায়তা প্রদান সহজতর করতে এবং সহিংসতা বন্ধে  একটি অন্তর্ভুক্তিমূলক জাতীয় সংলাপ প্রতিষ্ঠার জন্য বিভিন্ন স্টেকহোল্ডারদের মধ্যে আস্থা এবং পার্থক্য দূর করা জরুরী। আসিয়ান সদস্যারা একমত হয়ে সিদ্ধান্ত নেয় যে, মিয়ানমারের রাজনৈতিক সংকট মোকাবেলায় পাঁচ দফা ঐকমত্য বজায় রেখে তা সম্পূর্ণরূপে বাস্তবায়ন করতে হবে। মিয়ানমারের সশস্ত্র বাহিনীকে এবং সংশ্লিষ্ট সকল পক্ষকে সহিংসতা কমাতে এবং বেসামরিক, ঘরবাড়ি এবং জনসাধারণের উপর লক্ষ্যবস্তু হামলা বন্ধ করতে অনুরোধ জানাতে হবে।


আসিয়ান চেয়ারের বিশেষ দূতের প্রতি আস্থা তৈরি করতে হবে। মানবিক সহায়তার নিরাপদ এবং কার্যকর বিতরণ চালিয়ে যেতে হবে এবং মিয়ানমারের সংশ্লিষ্ট স্টেকহোল্ডারদের সহায়তায় নিশ্চিত  করতে হবে যাতে মানবিক সহায়তা সশস্ত্র সংঘাতের কারণে ক্ষতিগ্রস্ত আইডিপিদের কাছে পৌঁছে। এজন্য প্রয়োজনে বহিরাগত অংশীদার এবং আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের কাছ থেকে আরও সমর্থন জোগাড় করার কাজ চালিয়ে যেতে হবে। মিয়ানমারের সংকট ও এর প্রভাব মোকাবেলায়, মাদক ও মানব পাচারের মতো আন্তর্জাতিক অপরাধ বৃদ্ধি নিয়ন্ত্রনে আসিয়ান সদস্য দেশগুলির মধ্যে এবং মিয়ানমারের প্রতিবেশী দেশগুলোর সাথে সহযোগিতা বৃদ্ধি করতে হবে। সদস্য দেশ হওয়া সত্ত্বেও মিয়ানমার, সেপ্টেম্বর মাসে অনুষ্ঠিত এই আসিয়ান শীর্ষ সম্মেলনে অংশ নেয়নি। 


মিয়ানমারের সরকারবিরোধী দলগুলো জান্তাকে ক্ষমতাচ্যুত করার লক্ষ্য পুনর্ব্যক্ত করেছে। মিয়ানমারের সরকারবিরোধী আন্দোলনকে বিভক্ত করার জান্তার সাম্প্রতিক প্রচেষ্টার পর সামরিক একনায়কতন্ত্র নির্মূল এবং একটি ফেডারেল ডেমোক্রেটিক ইউনিয়ন প্রতিষ্ঠার রাজনৈতিক লক্ষ্যের ব্যাপারে কোনো ধরনের সমঝোতা প্রত্যাখ্যান করেছে দেশটির দুটি প্রধান সরকারবিরোধী সংগঠন। দেশটির জাতীয় ঐক্য সরকার (এনইউজি) এবং এর উপদেষ্টা সংস্থা ন্যাশনাল ইউনিটি কনসালটেটিভ কাউন্সিল (এনইউসিসি) জানিয়েছে যে জান্তার বিরুদ্ধে তাদের লড়াইয়ের চূড়ান্ত লক্ষ্য একটি ফেডারেল ইউনিয়ন প্রতিষ্ঠা। ফেডারেল ইউনিয়ন গঠন করার জন্য সামরিক একনায়কত্বকে নির্মূল করার পাশাপাশি দেশের রাজনীতিতে সামরিক বাহিনীর সম্পৃক্ততা এবং অভ্যুত্থানের প্রবণতাও মুছে ফেলতে হবে।


২০২১ সালে মিয়ানমারে সামরিক সরকার উৎখাত করে একটি ফেডারেল ডেমোক্রেটিক ইউনিয়ন গড়ে তোলার লক্ষ্য নিয়ে ক্ষমতাচ্যুত ন্যাশনাল লিগ ফর ডেমোক্রেসি (এনএলডি) সরকারের নির্বাচিত আইন প্রণেতারা এবং তাদের জাতিগত মিত্রদের নিয়ে এনইউজি গঠন করেছিল। এর সশস্ত্র শাখা পিপলস ডিফেন্স ফোর্স গ্রুপের (পিডিএফ) নেটওয়ার্ক শাসকগোষ্ঠীর বিরুদ্ধে কিছু জাতিগত সশস্ত্র সংগঠনের (ইএও) পাশাপাশি যুদ্ধ চালিয়ে যাচ্ছে। মিয়ানমারের অনেক মানুষ এনইউজিকে তাদের বৈধ সরকার এবং পিডিএফ গ্রুপগুলিকে তাদের সেনাবাহিনী হিসাবে বিবেচনা করে। সরকার ও বিরোধী শক্তির মধ্যে রাজনৈতিক "সংলাপের" পথ প্রশস্ত করতে কিছু প্রাক্তন সামরিক জেনারেলের নেতৃত্বে একটি সামরিক-পরিচালিত অন্তর্বর্তীকালীন সরকার গঠন করা হবে জানা যায়। এনইউজি তাদের বিবৃতিতে বলেছে যে একটি ফেডারেল ইউনিয়ন প্রতিষ্ঠার জন্য  তারা যে দৃষ্টিভঙ্গি এবং মূল্যবোধ নির্ধারণ করেছে তা থেকে বিচ্যুত করে এমন যে কোনও রাজনৈতিক পদক্ষেপকে স্পষ্টভাবে প্রত্যাখ্যান করে। তারা কেবল বর্তমান সরকারই নয়, পূর্ববর্তী সরকারগুলোর দ্বারা সংঘটিত মানবাধিকার লঙ্ঘন ও যুদ্ধাপরাধ এবং জাতিগত জাতীয়তার বিরুদ্ধে তাদের নৃশংসতা মোকাবেলায় অন্তর্বর্তীকালীন ন্যায়বিচার প্রক্রিয়াকে বাধ্যতামূলক ও বাস্তবায়ন করবে। মিয়ানমারের অন্যতম প্রাচীন ও শক্তিশালী জাতিগত সশস্ত্র গোষ্ঠী কারেন ন্যাশনাল ইউনিয়নের (কেএনইউ) পররাষ্ট্র বিষয়ক প্রধান পাদোহ সাও তাও নি জানায় যে, একনায়কতন্ত্রের পতনের ক্ষেত্রে এনইউজির অবস্থান কেএনইউ'র মতোই। কেএনইউ'র সশস্ত্র শাখা, কারেন ন্যাশনাল লিবারেশন আর্মি এবং কারেন ন্যাশনাল ডিফেন্স অর্গানাইজেশন এনইউজির পিডিএফের পাশাপাশি মিয়ানমারে সেনাবাহিনীর বিরুদ্ধে লড়াই করছে।



দীর্ঘদিন ধরেই মিয়ানমারের জান্তা দেশটির জনগণকে দমন করার জন্য ক্রমবর্ধমান সহিংস বিমান হামলা চালাচ্ছে। সাম্প্রতিক হামলায় অনেক বেসামরিক নাগরিক নিহত হয়েছে। সামরিক জান্তা অভ্যুত্থানের পর থেকে ৩ হাজার ৯০০ জনেরও বেশি বেসামরিক নাগরিককে হত্যা করেছে। জান্তা ক্ষমতা দখলের পর থেকে মিয়ানমার বিশৃঙ্খল পরিস্থিতির মধ্যে নিমজ্জিত হয়েছে, পশ্চিমা দেশগুলো বেশ কয়েক ধাপে নিষেধাজ্ঞা আরোপের পরও বিরোধীদের বিরুদ্ধে রক্তক্ষয়ী দমন-পীড়ন চলছে, একই সাথে বিভিন্ন ফ্রন্টে সামরিক বাহিনীর বিরুদ্ধে ও  প্রতিরোধ আন্দোলন জোরদার হচ্ছে। জান্তা সরকার এই নৃশংসতার কথা অস্বীকার করে বলেছে যে, তারা সন্ত্রাসীদের বিরুদ্ধে বৈধ অভিযান চালাচ্ছে।



যুক্তরাষ্ট্র জান্তা সরকারকে দুর্বল করতে মিয়ানমারের উপর নিষেধাজ্ঞার পরিধি আরও বাড়িয়েছে। মিয়ানমারের জেট ফুয়েল সেক্টরের সঙ্গে জড়িত বা সহায়তাকারী বিদেশি কোম্পানি ও ব্যক্তিদের অন্তর্ভুক্ত করে এই নিষেধাজ্ঞা অনুমোদন করা হয়েছে এবং এটি বাস্তবায়ন হলে এই সেক্টরের সঙ্গে যুক্ত ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠান নিষেধাজ্ঞার আওতায় আসবে। মার্কিন সন্ত্রাসবাদ ও আর্থিক গোয়েন্দা বিভাগের আন্ডার সেক্রেটারি ব্রায়ান নেলসন জানায় যে, নাগরিকদের নিপীড়ন করতে সক্ষম এমন সম্পদ থেকে জান্তা সরকারকে বঞ্চিত করার জন্য নতুন এই নিষেধাজ্ঞা দেয়া হয়েছে।  অভ্যুত্থানের পর থেকে যুক্তরাষ্ট্র ও অন্যান্য পশ্চিমা দেশগুলো মিয়ানমারের সামরিক নেতাদের ওপর কয়েক দফা নিষেধাজ্ঞা আরোপ করেছে। জুন মাসে মুদ্রা বিনিময়ের জন্য মিয়ানমার অয়েল অ্যান্ড গ্যাস এন্টারপ্রাইজসহ রাজস্ব উৎপাদনকারী রাষ্ট্রীয় মালিকানাধীন দুটি রাষ্ট্রায়ত্ত ব্যাংককে নিষেধাজ্ঞা দেয় যুক্তরাষ্ট্র।


জান্তা নিয়ন্ত্রিত অর্থলগ্নিকারী প্রতিষ্ঠান মিয়ানমা ফরেন ট্রেড ব্যাংক (এমএফটিবি) ও মিয়ানমা ইনভেস্টমেন্ট অ্যান্ড কমার্শিয়াল ব্যাংকের (এমআইসিবি) ১০০ কোটি ডলারের বেশি সম্পত্তি সোনালী ব্যাংকে ছিল যা গত জুনে মার্কিন নিষেধাজ্ঞার আওতায় জব্দের তালিকায় পড়ে। ডলারের বিপরীতে মিয়ানমারের মুদ্রা চ্যাটের মান কমে যাওয়ায় বর্তমানে মিয়ানমার চীনের এক্সপোর্ট ইমপোর্ট ব্যাংক থেকে নেয়া ঋণ পরিশোধ করতে অসুবিধার সম্মুখীন হচ্ছে। এই ব্যাংক থেকে মিয়ানমার ইতিপূর্বে ৪০০ মিলিয়ন মার্কিন ডলার ঋণ নিয়েছিল, চায়না এক্সিম ব্যাংক মিয়ানমারকে ৫% সুদে এই ঋণ দেয়। এসব কারনে মিয়ানমার কিছুটা অর্থনৈতিক চাপে রয়েছে। এই দুটি প্রতিষ্ঠানের অ্যাকাউন্ট বাংলাদেশের পক্ষ থেকে জব্দ করার প্রতিক্রিয়ায় মিয়ানমার রাখাইন রাজ্যের মংদু সীমান্ত দিয়ে বাংলাদেশে চাল ও পেঁয়াজসহ অন্যান্য পণ্য রপ্তানি বন্ধ করে দিয়েছে বলে জানা যায়। মিয়ানমার বাণিজ্য মন্ত্রণালয় জানায় যে, চাল, সয়াবিন, বাদাম ও পেঁয়াজসহ খাদ্যপণ্য শুধুমাত্র সিতওয়ের বাণিজ্যিক জোন দিয়েই রপ্তানি করা হবে।



অনেক ইউরোপীয় কোম্পানি পশ্চিমা নিষেধাজ্ঞার কারনে মিয়ানমার থেকে ব্যবসা গুটিয়ে নিয়েছে ও নিচ্ছে। অবকাঠামোগত উন্নয়ন থেকে শুরু করে ভোক্তাপণ্য খাতে সৃষ্ট সে শূন্যতা পূরণ করছে এশীয় প্রতিষ্ঠানগুলো, তারা সেখানে তাদের ব্যবসা সম্প্রসারণ করছে। মিয়ানমারের সঙ্গে চীন, থাইল্যান্ড ও জাপানের মতো দেশগুলোর সম্পর্ক স্থিতিশীল থাকার কারণে এসব দেশের বাণিজ্যিক তৎপরতা বাড়ছে। বেসরকারি থিংক ট্যাংক ইনস্টিটিউট ফর স্ট্র্যাটেজি অ্যান্ড পলিসি-মিয়ানমারের তথ্য অনুযায়ী, ২০২১ সালের ফেব্রুয়ারি থেকে চলতি বছরের মার্চের মধ্যে মিয়ানমার সরাসরি ৫.৪ বিলিয়ন ডলার বিদেশি বিনিয়োগ অনুমোদন করেছে যার মধ্যে হংকংসহ চীনের সম্পদের পরিমাণ ৫৫ শতাংশ বা ৩ বিলিয়ন ডলার। চলমান পরিস্থিতিতেও চীন ও মিয়ানমারের মধ্যে বাণিজ্যিক সম্পর্ক বাড়ছে। চীনের ইউনিয়ন রিসোর্সেস অ্যান্ড ইঞ্জিনিয়ারিং এবং ইউনান এনার্জি ইনভেস্টমেন্ট দক্ষিণ মিয়ানমারে আইয়ারওয়াদি অঞ্চলে ২.৫ বিলিয়ন ডলারের একটি বিদ্যুৎ কেন্দ্র নির্মাণ করছে। ২০২৭ সাল থেকে উচ্চক্ষমতার বিদ্যুৎ কেন্দ্রটি বাণিজ্যিকভাবে চালু হবে। এটি তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাসে চলবে এবং প্রায় ১.৪ গিগাওয়াট বিদ্যুৎ উৎপন্ন করবে। মিয়ানমারের মধ্য দিয়ে চীনের মূল ভূখণ্ডকে ভারত মহাসাগরের সাথে সংযুক্ত করার  বিষয়ে চীন-মিয়ানমার অর্থনৈতিক করিডোর নির্মাণ প্রকল্প এবং  চীনা কোম্পানিগুলোর নেতৃত্বে মিয়ানমারের অভ্যন্তরে রেল ও বন্দর নির্মাণের কাজ এগিয়ে চলছে। মিয়ানমারের তৈরি পোশাক শিল্পে চীনের উপস্থিতি উল্লেখযোগ্য হারে বেড়েছে। মিয়ানমারে বর্তমানে তিন শতাধিক চীনা পোশাক শিল্প-কারখানা রয়েছে। মিয়ানমারে উৎপাদিত মোট পোশাকের প্রায় অর্ধেকই চীনা প্রতিষ্ঠানগুলো থেকে উৎপাদন হয় ।



পশ্চিমা প্রতিষ্ঠানগুলো মিয়ানমারে থেকে চলে যাওয়ার থাই কোম্পানিগুলোও এই শূন্যতা পূরণে এগিয়ে আসছে, তারা মিয়ানমারের সাথে যৌথ উদ্যোগের মাধ্যমে  বিনিয়োগ করছে। থাই জ্বালানি কোম্পানিগুলো  মিয়ানমারে তাদের কার্যক্রম সম্প্রসারন করছে। থাইল্যান্ডের রাষ্ট্রীয় মালিকানাধীন তেল ও গ্যাস গ্রুপ পিটিটি এক্সপ্লোরেশন অ্যান্ড প্রোডাকশন, ফরাসি জ্বালানি সংস্থা মিয়ানমার থেকে চলে যাওয়ার তাদের দায়িত্ব গ্রহন করে। মিয়ানমার এই অঞ্চলে জ্বালানি নিরাপত্তায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। থাইল্যান্ডের মোট প্রাকৃতিক গ্যাসের প্রায় ১৫ শতাংশ সরবরাহ করে মিয়ানমার। থাই পানীয় উৎপাদনকারী প্রতিষ্ঠানগুলোও সেখানে ব্যবসা বাড়াচ্ছে। স্থানীয় কোম্পানির সঙ্গে যৌথভাবে তারা কারখানা স্থাপন করছে। থাই কোম্পানিগুলো নিজেদের দেশে মজুরি বাড়ার কারনে তারা স্বল্প মজুরির মিয়ানমারে বিনিয়োগের দিকে মনোযোগ দিচ্ছে। 



জাপান ও মিয়ানমার ঐতিহাসিকভাবেই মিত্রতার সম্পর্কে আবদ্ধ। জাপানের কিছু কোম্পানি মিয়ানমার থেকে তাদের কার্যক্রম গুটিয়ে নিলেও এখনো অন্তত ৪০০ জাপানি প্রতিষ্ঠান মিয়ানমারে ব্যবসা চালিয়ে যাচ্ছে। মিৎসুবিশি করপোরেশন ও মিৎসুবিশি এস্টেট তাদের কার্যক্রম বাড়িয়েছে। গত বছরের সেপ্টেম্বর থেকে মিয়ানমারে টয়োটা মোটর তাদের কার্যক্রম শুরু করেছে। পশ্চিমা নিষেধাজ্ঞা থাকা স্বত্বেও এশীয় কোম্পানিগুলোর বিনিয়োগ বৃদ্ধি মিয়ানমারের ভবিষ্যৎ অর্থনৈতিক কার্যক্রম চলমান রাখতে সহায়তা করবে বলে বিশ্লেষকরা মনে করে। বাংলাদেশের মত থাইল্যান্ড ও চীন মিয়ানমারের প্রতিবেশী দেশ। থাইল্যান্ডের সাথে মিয়ানমারের উদ্বাস্তু সমস্যা, মাদক, মানবপাচার ইত্যাদি নানা ধরনের সমস্যা রয়েছে। থাইল্যান্ড নিজেদের এইসব সমস্যা সমাধানে মিয়ানমারের সাথে প্রতিনিয়ত যোগাযোগ ও আলোচনা চালায়। চীনের সাথেও মিয়ানমারের বিভিন্ন ধরনের সমস্যা রয়েছে। এসব সমস্যার সমাধানের পাশাপাশি দেশগুলো মিয়ানমারের  চলমান পরিস্থিতিতেও তাদের বিনিয়োগ ও ব্যবসা সম্প্রসারন করে লাভবান হচ্ছে।  চলমান রোহিঙ্গা সংকট ছাড়া বাংলাদেশের সাথে মিয়ানমারের সম্পর্ক ভাল।


প্রতিবেশী দেশ হিসেবে বাংলাদেশ মিয়ানমারের সাথে যোগাযোগ বাড়াতে পারে। মিয়ানমার থেকে বাংলাদেশ চাল, ডাল সহ বিভিন্ন খাদ্যপণ্য আমদানি করতে পারে, এর পাশাপাশি বাংলাদেশের ঔষধের একটা বড় বাজার হতে পারে মিয়ানমার। বাংলাদেশের আটটি শিল্প গ্রুপ এখন বিলিয়ন ডলার ক্লাবে যোগ দিয়েছে। বাংলাদেশের বিনিয়োগকারীরা তাদের অভিজ্ঞতা ও সক্ষমতা কাজে লাগিয়ে মিয়ানমারে বিনিয়োগ করতে পারে। বর্তমান পরিস্থিতিতে মিয়ানমারে বিনিয়োগ ঝুঁকিপূর্ণ হলে ও অন্যান্য প্রতিবেশী দেশ তা থেকে যেভাবে লাভবান হচ্ছে বাংলাদেশ তাদের অভিজ্ঞতা কাজে লাগিয়ে উপকৃত হতে পারে।

বিষয়- আর্ন্তজাতিক, জাতীয় দূর্যোগ

মন্তব্য


মন্তব্য করতে হলে লগইন করুন অথবা নতুন হলে রেজিস্ট্রেশন করুন

এই বিভাগের আরও খবর


আইটি সম্পাদকঃ সুকান্ত ধর