পুলিশ বাহিনীর ওপর অনাস্থা হামলা,হুমকি ও আসামি ছিনতাইয়ের ঘটনায় বিনষ্ট হচ্ছে শৃঙ্খলা

:
পুলিশ বাহিনী দেশের আইন-শৃঙ্খলা রক্ষায় সরকারের প্রতিনিধি হয়ে রাষ্ট্র,রাষ্ট্রের মানুষের নিরাপত্তা, জনসেবা ও শৃঙ্খলা বজায় রাখতে কাজ করে। গত ৫ আগস্ট ২০২৪ইং দেশে রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর থেকেই দায়িত্ব পালন করতে গিয়ে পুলিশ সদস্যরা ক্রমাগত হামলা ও মারধরের শিকার হচ্ছে। সম্প্রতি রাজধানীর মোহাম্মদপুর,সাভার,নারায়ণগঞ্জ,গাজীপুর, মুন্সীগঞ্জ, ফরিদপুর, যশোর, মৌলভীবাজারসহ অন্য স্থানেও পুলিশ সদস্যদের ওপর হামলার ঘটনা ঘটেছে। পুলিশের ওপর হামলা, হুমকি ও আসামি ছিনতাইয়ে বিষ্ট হচ্ছে রাষ্ট্রের শৃঙ্খলা এমনকি থানার ভেতরেও পুলিশ হামলার শিকার হচ্ছে। কোথাও হামলা চালিয়ে আসামি ছিনতাইয়ের ঘটনাও ঘটেছে। বেশির ভাগ ক্ষেত্রে উচ্ছৃঙ্খল জনতার সংঘবদ্ধ আক্রমণে ঘটেছে ওসব ঘটনা। পুলিশ বিভাগ সংশ্লিষ্ট সূত্রে এসব তথ্য জানা যায়।
সংশ্লিষ্ট সূত্র মতে, চলতি বছরের জানুয়ারি ও ফেব্রুয়ারি মাসে পুলিশের কাছ থেকে আসামি ছিনতাইয়ের ১০টি ঘটনা ঘটেছে। কোথাও কোথাও থানায় ঢুকে পুলিশ সদস্যদের শাসানো এবং প্রকাশ্যে পুলিশকে হুমকি দেয়া হয়েছে। আর গত সাত মাসে পুলিশের ওপর ২৬৭টি হামলার ঘটনা ঘটেছে। ওসব ঘটনায় মামলা হয়েছে। রাজনৈতিক পটপরিবর্তনে গত বছরের আগস্টে ২৪টি, সেপ্টেম্বরে ২৪টি, অক্টোবরে ৩৪টি, নভেম্বরে ৪৯টি, ডিসেম্বরে ৪৩টি, জানুয়ারিতে ৩৮টি এবং ফেব্রুয়ারিতে ৩৭টি পুলিশের হামলার ঘটনা ঘটেছে। তার বাইরেও পুলিশ সদস্যদের সঙ্গে বিরূপ আচরণের বিভিন্ন ঘটনা ঘটেছে। তবে ঐসকল হামলার মধ্যে বেশ কয়েকটির সঙ্গে জড়িতদের আইনের আওতায় আনা হয়েছে।
সূত্র আরও জানায়,পুলিশের ওপর হামলার ঘটনায় রাষ্ট্রের আইন-শৃঙ্খলা ব্যবস্থার প্রতি সরাসরি চ্যালেঞ্জ প্রদর্শন। তাতে রাষ্ট্রের শৃঙ্খলা বিনষ্ট হচ্ছে। কারণ এটি আইন ও শৃঙ্খলার বিরুদ্ধে হামলা। এর ফলে দেশের নাগরিকদের দীর্ঘ মেয়াদে এর খেসারত দিতে হবে। হামলা, হুমকি ও আসামি ছিনতাইয়ের মতো ঘটনা পুলিশ বাহিনী নতুন সংকটে ফেলছে। তাতে দেশের সাধারণ জনগণ নিরাপত্তাহীনতা এবং রাষ্ট্রের স্থিতিশীলতার হুমকি বাড়ছে। রাষ্ট্রকে সুরক্ষিত রাখতে হলে আইন প্রয়োগকারী সংস্থার নিরাপত্তা নিশ্চিত করতেই হবে। এর বিকল্প নেই। কারণ চিহ্নিত সন্ত্রাসী ও অপরাধীরা সব সময় পুলিশ নিষ্ক্রিয় থাকুক তাই পুলিশ চায়। তারা তাদের ইচ্ছামতো অপরাধ ও স্বার্থসিদ্ধি করতে পারবে। অথচ রাষ্ট্রের স্বার্থে সব অপরাধীকে কঠোর হস্তে দমন করা জরুরি। সেক্ষেত্রে রাজনৈতিক দল, বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান,নাগরিক সমাজ থেকে শুরু করে সব শ্রেণি-পেশার মানুষকে আইন প্রয়োগে পুলিশকে সহযোগিতা করতে হবে। না হলে দেশে অরাজতকা বাড়তে থাকবে।
এদিকে আইজিপি বাহারুল আলম সম্প্রতি পুলিশের ওপর আক্রমণ না করে সহযোগিতা করতে দেশবাসীর প্রতি আহ্বান জানিয়ে বলেছেন, আমাদের কাজ করতে দেন। অনুগ্রহ করে আমাদের ওপর আক্রমণ করবেন না। আমরা তো সমাজ এবং এই দেশেরই লোক। পুলিশকে প্রতিপক্ষ ভাববেন না। পুলিশের প্রতি আক্রমণ করবেন না। আইন ও সংবিধানের প্রতি সম্মান প্রদর্শন করুন। দেশ গঠনে আমাদেরকে দেশের সেবা করা সুযোগ দিন। সমাজে স্থিতিশীলতা না আসলে কীভাবে আমরা নিরপেক্ষ, অবাধ নির্বাচনের দিকে এগুবো।