রাজিন সালেহ ও যুবায়ের শাকিল (বিশেষ প্রতিবেদক) :
গাজীপুরের টঙ্গী থানা এলাকার ৫২ নম্বর ওয়ার্ডের ২৭ দাঁড়াইল পশ্চিমপাড়া বটতলা এলাকাটি আজ ভয় ও আতঙ্কের নাম খোকন মিয়াকে ঘিরে। বহিরঙ্গে একজন "ভালো মানুষ" ও সমাজসেবকের ছদ্মবেশে থাকলেও, স্থানীয়দের অভিযোগ তিনি মূলত ইয়াবা ব্যবসা, অস্ত্র ও সন্ত্রাসের গডফাদার।
মামলার পরও কেন গ্রেফতার নয় ?
একাধিক স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, খোকনের বিরুদ্ধে বিভিন্ন থানায় মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইন ও অস্ত্র আইনে একাধিক মামলা রয়েছে। তার বাহিনী "খোকন বাহিনী" নামে এলাকায় পরিচিত, যারা দখল, চাঁদাবাজি, অপহরণ, ভয়ভীতি ও প্রমাণ নষ্ট করার মতো ভয়ঙ্কর অপরাধে জড়িত।
অভিযোগ রয়েছে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর কিছু প্রভাবশালী মহলকে মোটা অঙ্কের টাকা দিয়ে ম্যানেজ করেই তিনি বারবার আইনের চোঁখ ফাঁকি দিয়ে যাচ্ছেন।
ভাইয়ের রক্তে দাগী খোকন!
খোকনের আপন ভাই মামুন মিয়া অভিযোগ করেন,“আমি খোকনের ইয়াবা ব্যবসার প্রতিবাদ করায় আমাকে হত্যা করতে একাধিকবার চেষ্টা করা হয়েছে। আমার প্রাণনাশের হুমকি দিয়ে তার বাহিনী আমাকে এলাকা ছাড়তে বাধ্য করেছে। থানায় জিডি করলেও কোনো সুরাহা পাইনি।
কোটি টাকার অবৈধ সম্পদ তথ্যানুসন্ধানে উঠে এসেছে—
• খোকনের স্ত্রীর নামে একাধিক ব্যাংক অ্যাকাউন্টে কোটি কোটি টাকার লেনদেন।
• ছেলের নামে দামি ব্র্যান্ডের দুটি গাড়ি।
• হোটেল ব্যবসা, বাড়ি,সম্পত্তি ও এক ডজন মোটরসাইকেল বাহিনী দিয়ে তিনি এলাকায় "সম্রাট" বনে গেছেন।
তবে কোনো বৈধ পেশা না থাকা সত্ত্বেও এত সম্পদের উৎস কোথায় সে প্রশ্নের জবাব নেই। স্থানীয়দের মতে, ইয়াবা ও জুট ব্যবসা নিয়ন্ত্রণ করেই এই সাম্রাজ্য গড়ে তুলেছেন খোকন।
সাংবাদিকদের মুখ বন্ধের চেষ্টা খোকন ও তার বাহিনী এলাকায় সংবাদকর্মীদেরও হুমকি দেয়ার অভিযোগ রয়েছে। বিভিন্ন গণমাধ্যমে সংবাদ প্রকাশ হলে প্রভাব খাটিয়ে তা ধামাচাপা দেয়ার চেষ্টাও করেছেন তিনি।
মিডিয়ায় যেসব রিপোর্ট প্রকাশিত হয়েছে
. জাতীয় দৈনিক ভোরের আলো .দৈনিক প্রাণের বাংলাদেশ • সিটিজি ক্রাইম টিভি • সিটিজি নিউজ • দৈনিক আইন বার্তা• বিভিন্ন ইউটিউব চ্যানেল ও অনলাইন পোর্টাল
সব জায়গায় একই চিত্র মাদক ও সন্ত্রাসের ছত্রছায়ায় টঙ্গীতে খোকনের একক আধিপত্য।
স্থানীয়দের প্রশ্ন:
• মামলা থাকার পরও কেন তাকে গ্রেফতার করা হচ্ছে না ? • প্রশাসনের নীরবতার পেছনে কি টাকার খেলা ? • আমাদের সন্তানদের মাদক ও সন্ত্রাস থেকে কে রক্ষা করবে ?
এলাকাবাসীর দাবি:
• খোকন মিয়া ও তার বাহিনীর বিরুদ্ধে অবিলম্বে অভিযান পরিচালনা ও গ্রেফতার।• সকল মাদক মামলা পুনরায় সক্রিয় করা।• জুট ব্যবসা ও জমি দখল চক্র ভেঙে এলাকাবাসীর নিরাপত্তা নিশ্চিত করা।
নাম প্রকাশ না করার শর্তে একাথধিক স্থানীয়রা বলছেন, কোন এক অদৃশ্য কারণে খোকন ধরাছেঁয়ার বাহিরে “ভালো মানুষের মুখোশ খুলে আসল অপরাধীর চেহারা প্রকাশ পেয়েছে। এখন প্রশাসনের দায়িত্ব, খোকনের মতো প্রভাবশালী অপরাধীদের বিরুদ্ধে রুখে দাঁড়ানো। নইলে টঙ্গী মাদকের অভয়ারণ্য হয়ে উঠবে।
(মামলার কপি সংগৃহীত )