শনিবার, ৭ মার্চ ২০২৬, দুপুর ৩:১ সময়
খবরের সময় ডেস্কমঙ্গলবার, ১৬ সেপ্টেম্বর ২০২৫, বিকাল ৬:১৩ সময় 0387
ছবি:সজিব হোসেন
খবরের সময় ডেস্ক :
একাধিক মামলার আসামী মো: সজিব হোসেন গাজীপুরের কোনাবাড়ী,বাসন, কালিয়াকৈর থামা এলাকায় ডাকাতি,অস্ত্রসহ সশস্ত্র দস্যুতা এবং খুনের মতো গুরুতর অভিযোগ থাকা সত্ত্বেও, বারবার গ্রেফতারের পর আইনের ফাঁকফোকর ব্যবহার করে সে ও তার গ্যাং জামিনে মুক্তি পেয়ে ভয়ংকর অপরাধ চালিয়ে যাচ্ছে। ফলে থানা-পুলিশের অব্যাহত অভিযানের সত্ত্বেও অপরাধচক্র অক্ষত রয়েছে, আর জনসাধারণের নিরাপত্তাহীনতা ক্রমেই বৃদ্ধি পাচ্ছে।
জানা যায়, ময়মনসিংহ জেলার নান্দাইল মডেল থানার সংগ্রামকেলী এলাকার মৃত আবু সিদ্দিকের ছেলে মোঃ সজীব হোসেন (৩৪) গাজীপুর মহানগরীর কোনাবাড়ী এলাকায় তার অপরাধ সাম্রাজ্য বিস্তার করেছেন এবং একটি সুসংগঠিত অপরাধ চক্র প্রতিষ্ঠা করেছেন।
পুলিশ একাধিকবার সজিব ও তার গ্যাংয়ের সদস্যদের গ্রেফতার করে আদালতে প্রেরণ করলেও, অল্পদিনের মধ্যে তারা আইনের ফাঁকফোকর ব্যবহার করে জামিনে মুক্তি পেয়ে অপরাধে জড়িয়ে পড়তো । সজীবের নেতৃত্বে গঠিত এই গ্যাংটি বাসন ও কোনাবাড়ী থানাধীন ঢাকা-টাঙ্গাইল মহাসড়কে নিয়মিত ছিনতাই করে আসছে।
গত ১৭ জুলাই কোনাবাড়ী থানা পুলিশ সজিবসহ আটজনকে দেশীয় অস্ত্রসহ গ্রেফতার করে। গ্রেফতারের ৪৩ দিন পর সবাই জামিনে মুক্তি পায়। জামিনে মুক্তির কয়েকদিন পরেই সেপ্টেম্বর ২০২৫, সজিব গ্যাংয়ের সদস্যরা বাসন থানা এলাকায় ছিনতাইয়ের সময় হামিদ নামের এক ব্যক্তিকে হত্যা করে। এই হত্যাকাণ্ডে জড়িত থাকার কারণে সজিব গ্যাংয়ের একজন সদস্যকে গ্রেফতার করে কোনাবাড়ী থানা পুলিশ আদালতে সোর্পদ করে।
গাজীপুর মেট্রোপলিটনের কোনাবাড়ী থানা পুলিশ কয়েক মাসের ব্যবধানে তিনবার সজিব ও তার গ্যাংয়ের বিরুদ্ধে অভিযান চালিয়ে তাদের গ্রেফতার করলেও, অপরাধচক্র ভাঙতে হিমশিম খাচ্ছে। থানার একাধিক কর্মকর্তা, নাম প্রকাশ না করার শর্তে, জানিয়েছেন যে, "কয়েকবার গ্রেফতার ও মামলা হওয়া সত্ত্বেও নিয়মিত প্রক্রিয়ার মধ্যেই তারা দ্রুত জামিনে মুক্তি পেয়ে আবার অপরাধে জড়িয়ে পড়ে।"
কোনাবাড়ী থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মোঃ সালাউদ্দিন বলেন, "আমরা গ্রেফতার করি, মামলা দেই, কিন্তু জামিনে বেরিয়ে আসামিরা পুনরায় অপরাধে জড়ায়। ফলে পুলিশের অভিযান সাময়িক সাফল্য পেলেও টেকসই সমাধান হয় না। এতে সাধারণ মানুষের নিরাপত্তা বিঘ্নিত।"
ওসি আরও জানান, কুখ্যাত ছিনতাইকারী সজিবকে ১৭ জুলাই ২০২৫ তারিখে ডাকাতির প্রস্তুতির সময় হাতেনাতে গ্রেফতার করা হয়। মামলা গ্রহণের পর আদালতে প্রেরণ করা হয়।
পরে ১ ও ৮ সেপ্টেম্বর ২০২৫ তারিখে সজিব ও তার সহযোগীরা জামিনে মুক্তি পায়। তার সহযোগী রুহুল আমিন, যিনি গ্রেফতার হয়ে আদালতে সোপর্দ ছিলেন, ১ সেপ্টেম্বর মুক্তির পর ছিনতাইয়ের সময় হামিদ নামের একজনকে হত্যা করে। এ ঘটনায় বাসন থানায় হত্যা মামলা দায়ের করা হয়েছে এবং রুহুল আমিনসহ অন্যান্য আসামিদের গ্রেফতার করে আদালতে সোপর্দ করা হয়েছে।
স্থানীয়রা অভিযোগ করেছেন, সজিব গ্যাংয়ের বিরুদ্ধে এত মামলা ও অভিযান সত্ত্বেও অপরাধচক্র ভাঙা যাচ্ছে না। থানা পুলিশ নিয়মিত অভিযান চালালেও আইনের ফাঁকফোকর এবং জামিনের সুযোগ ব্যবহার করে অপরাধীরা বারবার মুক্তি পাচ্ছে। ফলে জনসাধারণ নিরাপত্তাহীনতার মধ্যে থেকে যাচ্ছে।
আইন সচেতন ও বিশ্লেষকরা মন্তব্য করেন, "সজিব গ্যাং-এর মতো অপরাধী চক্রের বিরুদ্ধে একের পর এক মামলা ও গ্রেফতার সত্ত্বেও চক্রগুলো অক্ষত রয়েছে। গুরুতর মামলার আসামিরা দ্রুত জামিন পাওয়ায় সাধারণ মানুষের মধ্যে আইন ও বিচার ব্যবস্থার প্রতি আস্থা কমছে। আইনের ফাঁকফোকর এবং আইনজীবীদের কৌশলই মূল কারণ।
আইন বিশেষজ্ঞরা মনে করেন, "মামলার সময় উপযুক্ত কারাবাসের আগে জামিনে মুক্তি পাওয়া পেশাদার অপরাধীদের আইন ও শাস্তির প্রভাবকে উপেক্ষা করতে উৎসাহিত করছে। গুরুতর অপরাধে অভিযুক্তদের জামিন প্রক্রিয়া কঠোর না হলে অপরাধচক্র ভাঙা সম্ভব নয়।"